জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তার দলের আমির হতে পারবেন না। তাঁর ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটি ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।
তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ এটা ‘বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশজুড়ে জামায়াতের নারী নীতি, কর্মঘণ্টা, মাতৃত্ব এবং নেতৃত্বে নারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে শফিকুর রহমান নারীদের বিষয়ে জামায়াতের পুরনো অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, একজন মা সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের সময় একইভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাই অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ের জন্য কর্মঘণ্টা কমানোর সুযোগ থাকা উচিত। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক।
বাংলাদেশে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি আগে থেকেই আছে— এ কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ছয় মাসে একটি শিশু বড় হয়ে যায় না। এ সময় আরও সহানুভূতিশীল নীতি দরকার।
এই বক্তব্যের জেরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছে— এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি নারীদের অসম্মান করেন না এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করেন। তবে যারা প্রতিবাদ করেছে, তারা সমাজের ‘নগণ্য অংশ’।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়েও কথা বলেছেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, এবার একজনও নারী প্রার্থী নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি বাংলাদেশের একটি ‘সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং অন্য দলগুলোও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী দেয়নি।
একজন নারী ভবিষ্যতে জামায়াতের আমির হতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এটা সম্ভব না।’ তাঁর মতে, নারী ও পুরুষের মধ্যে সৃষ্টিগত পার্থক্য আছে, যা পরিবর্তন করা যায় না।
বাংলাদেশে গত তিন দশকে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকার প্রসঙ্গ এলে তিনি বলেন, জামায়াত তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেনি। তবে দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত প্রতিটি দলের নিজস্ব বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।