রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিয়ানমারের মিং পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চীনের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৬

মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ ক্যাসিনো ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধভাবে আটক, টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি, অর্থপাচার ও জুয়ার আসর পরিচালনাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করে। ওই মামলায় মোট ৩৯ জনকে দণ্ডিত করা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনকে দুই বছরের স্থগিত মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকিদের পাঁচ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মিং পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল মিয়ানমারের শান রাজ্যের সীমান্তবর্তী ছোট শহর লাউকাই। একসময় চীনা জুয়াড়িদের আকৃষ্ট করতে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোগুলো ধীরে ধীরে অনলাইন প্রতারণা, অর্থপাচার ও মানব পাচারের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে ‘স্ক্যামডেমিক’-এর কেন্দ্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যেখানে লাখের বেশি বিদেশিকে জোরপূর্বক প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়েছিল।

এই প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর হাজারো চীনা নাগরিক আটকা পড়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মারধর ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিদেশিদের সঙ্গে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো।

২০২৩ সালে মিয়ানমার সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে মিং পরিবারের বহু সদস্যকে গ্রেফতার করে চীনের হাতে তুলে দেয়। এই অভিযানের পেছনে বেইজিংয়ের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। কারণ চীন দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে এসব প্রতারণা চক্র দমনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

গত বছর এক চীনা অভিনেতাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিনয়ের কাজের প্রলোভনে তিনি থাইল্যান্ডে যান, কিন্তু পরে তাকে মিয়ানমারের একটি প্রতারণা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা চীনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং কেলেঙ্কারি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়।

চীনের আদালত জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মিং পরিবার টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি, অবৈধ ক্যাসিনো, মাদক পাচার ও দেহ ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি (প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আদালতের মতে, মিং পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিক নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভিডিও