গণভোটকে ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। সরকার বলছে ‘হ্যাঁ’, বিএনপি নেতার ডাক ‘না’। ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে নাজিমুর রহমান লিখেছেন, ‘গণভোট প্রতারণার ফাঁদ, জোর করে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি না ভোটের পক্ষে। গনতন্ত্র আর দেশের স্বার্থে আপনিও না ভোট দিন।’
এ পোস্টে কমেন্ট করেছেন অনেকে। মো. রহিম উদ্দিন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, “তোমরা ‘না’ ভোট দিও। নির্বাচনে জনগণও তোমাদের ‘না’ করে দিবে, ইনশাআল্লাহ”। সালাউদ্দিন সেলু নামে একজন লিখেছেন, ‘না মানে না, কোনো মতেই না’।
রুকন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধীদের না বলুন, জুলাই বাটপারদের না বলুন, না মানে ন ‘। শেখ মহসিন নিলু নামে একজন লিখেছেন, ‘দেশের লুটেরা, ধান্ধাবাজ দখলবাজরাই না ভোটের পক্ষে, আর সুশাসনের জন্য হা ভোট।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটকে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা নির্ধারিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে একজন শীর্ষ বিএনপি নেতার প্রকাশ্যভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান সরকার ঘোষিত প্রচারণার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া এক বক্তব্যে নাজিমুর রহমান ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত দলকে আরও ছয় মাস অপেক্ষায় থাকতে হবে। ছয় মাস বাড়তি সময় পাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। তারা মানুষের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত দল ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে না। এসব বিষয় বিবেচনায় আমি না ভোটের পক্ষে।’’
তবে দলীয়ভাবে ‘না’ ভোট দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।