সংবাদ প্রকাশের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও চবি ছাত্রশিবির। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে চাকসু জানিয়েছে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা জুলাই গণ-বিপ্লবের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। জুলাই গণ-বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীর জন্য এমন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক।
চাকসু মনে করে, এমন হুমকি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সর্বোপরি স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতের প্রতিবন্ধকতা দাঁড় করিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের এমন হুমকির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে চাকসু। পাশাপাশি সকল দায়িত্বশীল সংগঠনকে ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীর মানবাধিকার নিশ্চিতে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে ছাত্রশিবিরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে অবৈধভাবে সিট দখল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করায় ‘স্টার নিউজ’র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে পাহাড়ে নিয়ে মারধরের হুমকির ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
চবি শিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অবৈধভাবে সিট দখল করে অবস্থান করার ঘটনা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে অবহেলাও স্পষ্ট। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- হলগুলোতে অবৈধভাবে সিট দখলকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে আলোচ্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কলে সাংবাদিক এম মিজানুর রহমানকে হুমকি দেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাতুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিজেকে আব্দুস সালাম সালমান পরিচয় দেন। যিনি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। সালমান দীর্ঘদিন ধরে শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই হুমকির ঘটনা ঘটে।