রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিরসরাইয়ে হবে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক

পূর্বতারা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪

দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিজেড) স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। একইসঙ্গে মিরসরাইয়ে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠন, কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরুজ্জীবন, পৌরসভা এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সুযোগ সৃষ্টি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) ১.২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিডার গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, গভর্নিং বোর্ড সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি।  

তিনি জানান, মিরসরাই এলাকায় প্রায় ৮৫০ একর জমি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে চিহ্নিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমিটি আগে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও প্রকল্প বাতিল হওয়ায় সেটি পুনঃব্যবহারযোগ্য ছিল। 

এখন বেজার মাস্টারপ্ল্যানে এই এলাকাকে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

আশিক বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা শিল্পে চাহিদা বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকটের সময় নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই ইন্ডাস্ট্রিল পার্ক কিভাবে হবে এবং এখানে কারা বিনিয়োগ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি সমরাস্ত্র কারখানা রয়েছে। এটি সরকারিভাবে পরিচালিত হয়। তবে নতুন জোনটি হবে ব্যক্তি খাতে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে। এখান থেকে বিদেশে সমরাস্ত্র রপ্তানি করা হবে।

বেজার গভর্নিং বোর্ড সভায় দেশে ফ্রি ট্রেড জোন চালুর নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় স্থাপন করা হবে। আনোয়ারায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো ফ্রি ট্রেড জোনের ধারণা কার্যকরভাবে নেই। প্রস্তাবিত এই অঞ্চলটি কাস্টমস বিধির ক্ষেত্রে একটি অফশোর টেরিটরির মতো কাজ করবে। সেখানে কোনো শুল্ক বাধ্যবাধকতা থাকবে না। পণ্য সংরক্ষণ, পুনঃরপ্তানি কিংবা উৎপাদন করা যাবে। ফ্রি ট্রেড বলতে আমরা মূলত একটি অফশোর টেরিটরিকে বুঝি। এখানে পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ হবে না।

এফটিজেডের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে তিনি জানান, রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে কাঁচামাল সরবরাহের সময় (টাইম টু মার্কেট) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে অর্ডারের পর অনেক সময় লাগে, যা দ্রুত ডেলিভারির অর্ডারের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ভিডিও