বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যেসব পরিকল্পনার কথা বলছি তা বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই ২টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেভাবে আমরা অতীতেও করেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে যে কোন মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। আমরা কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবো। যাতে মানুষ নিরাপদে চলতে পারে, কাজ করতে পারে। এটি মানুষের প্রতি আমাদের কমিটমেন্ট।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমান। অপরাধীর পরিচয় কোন দল দিয়ে নয়। অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যারাই করুক তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। কাজেই আমরা যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি তা বাস্তবায়নে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ করতে চাইলে আমরা কোন ছাড় দিবো না, ইনশাআল্লাহ।
সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা স্বাস্থ্যখাতে রোগ প্রতিরোধ করার বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া হবে। সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বেসিক হেলথ ট্রেনিং তাদের দেওয়া থাকবে। তারা গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি যাবে। আমাদের প্ল্যান ওভাবে সাজাবো আমরা। একজন কিংবা দুইজন হেলথ কেয়ারার নির্দিষ্ট গ্রামের জন্য অ্যাসাইন করা হবে। এরমধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ নারী নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ তারাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনকে বুঝাবে। এতে ধীরে ধীরে হেলথ ফেসিলিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি উত্থাপন করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে, তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানি তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করবো। এ সময় তিনি সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে খাল খননে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ২৪ এর আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় আমরা কোটা প্রথা বাতিল করেছি। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন: ডিজেবল বা ভিন্ন ধরনের মানুষদের জন্য সংক্ষিপ্ত কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে সব সুযোগ-সুবিধা মেধার ভিত্তিতে পাওয়া উচিত। এটি সমতল ও পাহাড়-সব যুবকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের অধিকার সমান। যোগ্যতার ভিত্তিতে সকল সুযোগ পাওয়া উচিত। শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধায় প্রত্যেক নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষকরা এদেশের প্রাণ। আমরা তাদের পাশে থাকতে চাই। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।
সমাবেশ থেকে তিনি সকলের কাছে ধানের শীষের ভোট চেয়ে প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।