রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণভোট ভবিষ্যত বাংলাদেশের রুপরেখা নির্দেশ করবে: প্রধান তথ্য অফিসার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৭

প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর বলেছেন, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ গণভোট ভবিষ্যত বাংলাদেশের রুপরেখা নির্দেশ করবে। 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) পিআইডি চট্টগ্রামের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করে তথ্য অধিদফতর ঢাকা। কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান তথ্য অফিসার।

তিনি বলেন, নতুন ভোটার, নারী ভোটার এবং সচেতন ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা, তাদের অবহিত করা ও অনুপ্রাণিত করার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ তথ্য অধিদফতর করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ দায়িত্ব সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও। তাদেরকেও সরকারের পক্ষে ইতিবাচক জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তথ্য অধিদফতরের আজকের এ আয়োজন   ও এর বার্তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সরকারের প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পিআইডি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, পিআইডি সদর দপ্তরসহ দেশের সাতটি বিভাগে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। পাশাপাশি সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও দিকনির্দেশনা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে শতাধিক সরকারি তথ্য বিবরণী গণমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন–সংক্রান্ত ছবি, তথ্যচিত্র ও ফটোকার্ড নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়া সম্প্রতি পিআইডির অধীনে গঠিত নিউ মিডিয়া শাখা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। ফিচার শাখা থেকেও গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রস্তুত করে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে পাঁচ দিনের জন্য অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। সেখানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিমানবন্দরে একটি হেল্পডেস্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় আসন্ন নির্বাচনকে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নতুন ভোটার ও তরুণ সমাজকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় মুক্ত আলোচনা সেশনে সাংবাদিকরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

পিআইডি চট্টগ্রামের সিনিয়র তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় পিআইডি ঢাকার উপপ্রধান তথ্য অফিসার অনসূয়া বড়ুয়া, চট্টগ্রামের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. সাঈদ হাসান, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, বাসস চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, সাংবাদিক গোলাম মাওলা মুরাদ, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, পিআইডি চট্টগ্রামের তথ্য অফিসার জি. এম সাইফুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন, পিআইডি ঢাকার তথ্য অফিসার আফসানা মিমি, ক্রয় কর্মকতা শাহ আলম সরকার সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও