৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের চিত্র পাল্টে গেছে। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সলিমপুরে স্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলেছে। দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকা এখন পেশাদার সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড় ও গভীর জঙ্গলে ঘেরা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সলিমপুর সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলেও কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও পুরোপুরি ভাঙা যায়নি এসব আস্তানা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসেও র্যাব এখানে অভিযানের পরিকল্পনা নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার চিহ্নিত তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালায় র্যাব। র্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দিন সকালে একটি সোর্সের মাধ্যমে খবর আসে— সলিমপুরে একটি দলের কার্যালয় উদ্বোধন হবে, যেখানে আলোচিত তিন সন্ত্রাসীর উপস্থিতির তথ্য ছিল।
দুপুর থেকেই দুটি মাইক্রোবাসে করে ১৬ সদস্যের র্যাব দল অভিযান শুরু করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে র্যাবের চার সদস্য কার্যালয়ে প্রবেশ করে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় চার র্যাব সদস্যকে ঘিরে ধরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ হামলায় নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হন। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পাই যে চার র্যাব সদস্যকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে আমি নিজে টিম নিয়ে তিন কিলোমিটার দূরে নিজামপুর থেকে তাদের উদ্ধার করি। চারজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কারো শরীরে গুলির চিহ্ন দেখা যায়নি।
র্যাব–৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, অপারেশনের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আব্দুল মোতালেব নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লার কোটবাজারে। জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হামলাকারীদের শনাক্তে আমরা কাজ করছি।