সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ছেলেশিশুটির মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের একজন চার বছর বয়সী মেয়েশিশু। কনকনে শীতে সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা শিশু দুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নিজের কাছে আশ্রয় দেন মহিম উদ্দিন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটিকে হেফাজতে নেয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার শিশু দুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে যান। জেলা প্রশাসক শিশুদের চিকিৎসা ও যাবতীয় ব্যয়ের দায়িত্ব নেন। তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকায় চার বছর বয়সী মেয়েশিশুটিকে অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই বছর বয়সী ছেলেশিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহের মাথায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলম। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। তাঁর স্ত্রীর বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর আর ফেরেননি।

এ ঘটনা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ৩১ ডিসেম্বর আদালত বিষয়টি আমলে নেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেন আনোয়ারা থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপের লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ শিশুদের পিতা খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, মারা যাওয়া শিশুটির মরদেহ নিতে তার দাদি চট্টগ্রামে এসেছেন। মানিকছড়ির ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভিডিও