সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উপলব্ধি ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে ডিসি

যারা বড় হয়েছে সবাই কষ্ট করেই বড় হয়েছে: জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৭

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যস্ততার মাঝেও মানবিক দায়বোধকে প্রাধান্য দিয়ে নগরের খুলশী এলাকায় অবস্থিত ‘উপলব্ধি ফাউন্ডেশন’ পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ওই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়প্রাপ্ত স্বজনহীন, হারিয়ে যাওয়া এবং ঠিকানাবিহীন মেয়েশিশুদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশে জেলা প্রশাসক সরাসরি নজর দিয়েছেন।

উপলব্ধি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইজাবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক শেলী রক্ষিত জানান, আনোয়ারা উপজেলায় রাস্তার পাশে শীতে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগ্রহ থেকে তিনি প্রথমে অফিসে আমন্ত্রণ জানান এবং প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শিশুদের শিক্ষা, বসবাস, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক কল্যাণের বিষয়ে সরাসরি খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুদের এক বেলা খাবারের ব্যয়, বই ও শিক্ষা উপকরণ, ৮৫টি কম্বল, ফলমূল এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক খেলাধুলার সরঞ্জাম (ব্যাডমিন্টন ব্যাট, বাস্কেটবল, দাবা বোর্ড, লুডু বোর্ড ইত্যাদি) প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ তো নিজের সন্তানের কথাই ভাবে। কিন্তু অন্যের সন্তানের কথা কয়জন ভাবে? আমরা সরকারি চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের জন্য সময় বের করা উচিত। আজ এখানে যে সময় ব্যয় করেছি, সেটাই আমার শ্রেষ্ঠ সময়।

তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তোমাদের মাঝে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে। স্বপ্ন দেখতে হবে, কারণ যারা বড় হয়েছে, তারা সবাই কষ্ট করেই বড় হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইজাবুর রহমান বলেন, আগে অনেক জেলা প্রশাসক এসেছেন, তবে সাধারণত অনুষ্ঠান বা আমন্ত্রণে। কিন্তু ডিসি সাহেব আমাদের সম্পর্কে আগে থেকেই খোঁজ নিয়ে নিজ উদ্যোগে এসেছেন। রান্নাঘর পর্যন্ত ঘুরে দেখে গেছেন। বাচ্চাদের জন্য কী রান্না হচ্ছে, সেটাও নিজ চোখে দেখেছেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক শেলী রক্ষিত বলেন, ডিসি সাহেব অত্যন্ত মানবিক। এখানে এসে শিশুদের সঙ্গে মিশে গেছেন, প্রায় প্রতিটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের জীবন, শিক্ষা এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এটি শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

জেলা প্রশাসক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান এতটা হৃদয়গ্রাহী, সুন্দর এবং প্রাণবন্ত হতে পারে। এটা আমার জানা ছিল না। সুবিধাবঞ্চিত ও স্বজনহারা শিশুদের সঠিক সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের সম্পদে পরিণত হবে।

উপলব্ধি ফাউন্ডেশনে বর্তমানে প্রায় ৭৫ জন মেয়েশিশু বসবাস করছে। এরা নগরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, এবং খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

ভিডিও