রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শীতের পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৫

শীত মৌসুম এলেই পাহাড়ের ডাক উপেক্ষা করতে পারেন না সমতলের মানুষ। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শীতের আনন্দ উপভোগ করতে খাগড়াছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সাজেক ভ্যালিতে ভিড় জমাচ্ছেন দেশি পর্যটকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেকগামী পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যাতায়াত সহজ হওয়ায় অনেকেই খাগড়াছড়ি রুট বেছে নিচ্ছেন। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, জেলা পরিষদ পার্কসহ জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

পাহাড়, অরণ্য, ঝিরি ও ঝরনায় ঘেরা খাগড়াছড়ির শীতকালীন আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য অনুকূল। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত সেতু, তারেং ও রিছাং ঝরনায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পর্যটকদের আগমনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

রাজশাহী থেকে আগত পর্যটক এ কে এম শামসুল আরেফিন বলেন, পাহাড়ের নির্মল বাতাস ও মুক্ত পরিবেশ শহরের কোলাহল থেকে আলাদা। তার মতে, সাজেকের চেয়ে খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো বেশি আকর্ষণীয়। ঢাকার শ্যামলী থেকে আসা রোশন আরা জানান, আলুটিলার ঝুলন্ত সেতু ও রহস্যময় গুহা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।

তবে কিছু পর্যটকের ভিন্ন মতও রয়েছে। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা ইসমত আরা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিনোদনের আরও কিছু ব্যবস্থা থাকলে পর্যটন অভিজ্ঞতা বাড়ত।

পর্যটক বাড়ায় সন্তুষ্ট হোটেল ব্যবসায়ীরাও। হোটেল অরণ্য বিলাস ও পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ জাহিদুল কবির জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নিয়মিত টহল চলছে। জেলা পুলিশও সার্বিক সহযোগিতা করছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ জানিয়েছে, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, শীত মৌসুম জুড়ে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

ভিডিও