নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি ক্যান্টারবেরির উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরীর ওয়াইমারি রোড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সান্ধ্য ভোজের।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক এস. এম. আকরামুল কবির ও চিরন্তন চৈতী অতিথিবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং শিশু শিল্পীদের কণ্ঠে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে বিবিসির একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২৫ মার্চের গণহত্যা থেকে শুরু করে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়। পরে আসিবুর রহমান বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি ক্যান্টারবেরির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সূচনা হয় শিশুদের কোরাস পরিবেশনা ‘আমরা সবাই রাজা…আমাদের এই রাজার রাজত্বে’ গানটির মাধ্যমে। এতে অংশ নেয় আইয়ান, ফাউজান, ইযহান, রুদ্র, নয়নিকা, ওয়াফি, মুনতাহা, মুহতাসিম, সারাফ, সামরিন ও আয়ান। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নয়নিকা আইচ নৃত্য পরিবেশন করেন ‘ধীম তা ধারে ধানি’, ওয়াফি আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘বীরপুরুষ’। আইয়ান-অর-রশিদ পরিবেশন করেন ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’। রুদ্র আইচ ও নয়নিকা আইচ পরিবেশন করেন দেশাত্মবোধক গান ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’। এছাড়া শিশু শিল্পীদের দলীয় নৃত্য ‘চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে’ অনুষ্ঠানে যোগ করে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।
মুনতাহা আবৃত্তি করেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতা। নাদিম কাওসার আবেগঘন কণ্ঠে পরিবেশন করেন “ভ্রমর কইও গিয়া”। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে আমন্ত্রিত নেপালি শিল্পী সাদিক্ষ্যা নৃত্য পরিবেশন করেন ‘Darshan Gare’। মারজান রহমান গেয়ে শোনান ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি, ও আমার বাংলাদেশ’।
পরবর্তীতে স্বরূপা কুন্ডু পরিবেশন করেন ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ্য মুক্তিসেনা’, অপু চৌধুরী ও মুনতাহা কারিনা দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’। চিরন্তন চৈতী পরিবেশন করেন ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ এবং উদ্দীপন রায় চৌধুরীর সঙ্গে যুগল কণ্ঠে ‘নেশা লাগিলো রে’ গানটি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে আনন্দের রেশ ছড়িয়ে দেন।
লায়লা আক্তার পরিবেশন করেন ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ গানটি, যা শহীদ সন্তানহারা মায়ের বেদনা তুলে ধরে। কনক চাঁপা পরিবেশন করেন ‘সেদিন আর কত দূরে’ গানটি, যা আশার বার্তা বহন করে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে সকল শিল্পীর সম্মিলিত কোরাস পরিবেশনা “মুক্তির মন্দির সোপানতলে” গানটির মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে সর্বকনিষ্ঠ শিল্পী আইযা রহমানের নৃত্য পরিবেশনাও দর্শকদের বিশেষভাবে আনন্দিত করে।
অনুষ্ঠানে ক্যান্টারবেরির বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা, উৎসাহ ও ভালোবাসায় আয়োজনটি সফল হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন এস. এম. আকরামুল কবির, জুয়েল আইচ, কণকচাঁপা কায়স্থগীর ও আসিবুর রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটি ক্যান্টারবেরির আয়োজনে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় দেশীয় খাবার। বিদেশের মাটিতে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হয়ে ওঠে বাংলাদেশি কমিউনিটির আবেগ, দেশপ্রেম ও ঐক্যের এক অনন্য প্রকাশ।