সিলেটে তিনটি ম্যাচ শেষ করে ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে চলে এসেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। পরিকল্পনা ছিল দুই দিন ছুটি কাটিয়ে অনুশীলন করবে। টিম ম্যানেজমেন্টের সে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে হঠাৎ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম ভেন্যু বাতিল করায়। স্বস্তির বদলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। চট্টগ্রাম থেকে দ্রুত সিলেটে ফিরতে বলা হয়েছে দলটিকে।
পরিবর্তিত সূচিতে টানা তিনটি ম্যাচ রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা ছিল প্রথম থেকেই। ভেন্যু বাতিল করে হযবরল করে ফেলেছে তারা। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দুই দিন খেলা স্থগিত হওয়ায় চট্টগ্রাম ভেন্যু বাতিল করে সিলেট ও ঢাকায় ম্যাচগুলো সমন্বয় করা হয়েছে।
বিপিএলের এবারের আসর মাঠে গড়িয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। সিলেট টাইটান্স ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ দিয়ে ২ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল সিলেট পর্ব। ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১২টি ম্যাচ। চট্টগ্রামের সমর্থকদের হতাশ করে ম্যাচগুলো বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘আপনারা জানেন, খালেদা জিয়া মারা যাওয়ায় জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। উনার সম্মানে আমরা দুদিন খেলা বন্ধ রেখেছি। ওই ম্যাচগুলো সমন্বয় করতে হবে। আবার বিপিএলের ফাইনাল ২৩ জানুয়ারি হতে হবে। কারণ, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে যাবে ২৬ জানুয়ারির দিকে। এ ছাড়া প্রডাকশন দল এবং আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দল, গভর্নিং কাউন্সিল, টেকনিক্যাল কমিটি সবার সঙ্গে আলাপ করে দুই দিনের বিরতি সমন্বয় করতে চট্টগ্রাম ভেন্যু বাতিল করতে হয়েছে।’
বিসিবির এই কর্মকর্তা চট্টগ্রামের দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের দর্শকদের কাছে দুঃখিত। চট্টগ্রামের সমর্থক, ম্যানেজমেন্ট সবাই সবকিছু প্রস্তুত করে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের চট্টগ্রাম ভেন্যু বাতিল করতে হয়েছে। আমরা এখানে ভ্রমণের দুদিন বাঁচাব। অ্যাডজাস্ট করার জন্য চট্টগ্রামের খেলাগুলো আমরা ঢাকায় ও এখানে (সিলেট) নিয়ে এসেছি। সিলেটে ১২ তারিখ পর্যন্ত খেলা হবে। ১৩ তারিখ দলগুলো ঢাকায় চলে যাবে। অন্য কিছু পরিবর্তন না করে কিছু খেলা সকাল-বিকেল করতে হয়েছে।’
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ১২ জানুয়ারি টানা খেলা হবে সিলেটে। নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৫ সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। ৬ জানুয়ারি বিশ্রাম দিয়ে ৭, ৮ ও ৯ জানুয়ারি ম্যাচ রাখা হয়েছে। ১০ জানুয়ারি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ১১ ও ১২ জানুয়ারি ম্যাচ দিয়ে সিলেট পর্ব শেষ হবে। ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি বিশ্রাম কাটিয়ে ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএল শুরু হবে। ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষ হবে।
ঢাকা পর্বে ১৯ জানুয়ারি টুর্নামেন্টের প্রথম এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচ হবে। ২১ জানুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মধ্য দিয়ে ফাইনালের দল চূড়ান্ত হবে। ২৩ জানুয়ারি ঢাকায় ফাইনাল। এবারের বিপিএলে অংশ নেওয়া ছয়টি দল হচ্ছে– রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সিলেট টাইটান্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।