রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বোয়ালখালীর মাঠজুড়ে সরিষার হাসি, দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

বোয়ালখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শীতের হিমেল হাওয়ায় বোয়ালখালীর মাঠজুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। চোখজুড়ানো এই দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। সরকারি প্রণোদনা পেয়ে এ বছর প্রথমবারের মতো আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মো. জামাল উদ্দিন ৪০ শতক জমিতে বীণা-২০ জাতের সরিষা চাষ করেছেন।

তিনি জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরিষার বীজ বপন করেন। বেড়া, শ্রমিকসহ তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে মাঠে সরিষা ফুলে ভরে গেছে। জানুয়ারিতে ফসল ঘরে তোলা যাবে। তার আশা, এ মৌসুমে ৭ থেকে ৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে তিনি ভালো লাভের মুখ দেখবেন। তিনি আরও বলেন, সরিষা চাষে সময় ও সেচ কম লাগে, বীজের সংকটও নেই। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় আগামীতেও সরিষার আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরিষা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচলিত দেশি জাতের তুলনায় উচ্চ ফলনশীল বারি সরিষা-১৪ ও বারি সরিষা-১৭ জাত বেশি উৎপাদন হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। চাষিরা প্রতি কানি জমি থেকে ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৪০ হেক্টর। এ বছর ১৫০ জন কৃষককে সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নত জাতের বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-১৮ ও বীণা সরিষা-২০ এর মোট ২৫টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিজ উদ্যোগে অনেক কৃষক সরিষার আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম।

তিনি বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ও তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। প্রতি বছর এর আবাদ বাড়ছে। তৈলজাতীয় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরিষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি ও বিদেশ থেকে ভোজ্যতেল আমদানি কমাতে সরকার বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করছে। আবাদ বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশও উপকৃত হবে।

করলডেঙ্গা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, করলডেঙ্গা এলাকায় আগে কখনো সরিষার আবাদ হয়নি। এ বছর প্রথমবারের মতো ২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগ্রহ বাড়াতে ১০ জন কৃষককে প্রণোদনা, ৫ জনকে বীজ সহায়তা এবং একজন কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও